ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
নির্বাচনের আগে সংস্কার

সময় দিতে চায় আওয়ামী লীগ

  • আপলোড সময় : ১৫-১০-২০২৪ ০২:২৬:৪২ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৫-১০-২০২৪ ০২:২৬:৪২ অপরাহ্ন
সময় দিতে চায় আওয়ামী লীগ

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নানা সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে চায় ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগ। তবে দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে তারা সরকারকে চাপ দেবে না। দলে সংস্কার এবং নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা এ কথা জানিয়েছেন।
সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ প্রকৃতপক্ষে চাইছে অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারে যতদিন প্রয়োজন ক্ষমতায় থাকুক। তাদের হাত ধরে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পদ্ধতি চালু হোক, প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার হোক। এই ফাঁকে আগামী এক-দুই বছর দল গোছানোর কাজ করবে আওয়ামী লীগ। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতার মতে, টানা ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে আওয়ামী লীগের অনেক ভুলত্রুটি হয়েছে। দলের মধ্যে কোন্দল চরমে পৌঁছে যায়। নেতাদের অনেকে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতিবাজদের বিচারের আওতায় আনার কাজও করছিল। কিন্তু তা হয়তো জনগণের মনে আস্থা জাগাতে পারেনি। এখন এসবের মূল্যায়ন করে আওয়ামী লীগ পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে। তিনি বলেন, এখন আমরা চাই, যাঁরা রাষ্ট্র সংস্কারের ডাক দিয়ে ক্ষমতা দখল করলেন, তাঁরা সেগুলো বাস্তবায়ন করুন। এই সময়ের মধ্যে আমাদের ত্রুটিবিচ্যুতি সংশোধন করার কাজ করব। গণমানুষের আকাক্সক্ষা ধারণ করে আবার ফিরবে আওয়ামী লীগ। তবে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে কতটুকু গণতান্ত্রিক সুযোগ দেবে, তা নিয়ে সন্দেহ জানিয়েছেন দলের একাধিক নেতা। এই সন্দেহের কারণ হিসেবে জাতীয় শোক দিবসের সরকারি ছুটি বাতিল করা, আওয়ামী লীগ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা এবং একাধিক নেতার ব্যাংক হিসাব স্থগিত করার কথা উল্লেখ করেন তাঁরা।  
সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, আওয়ামী লীগকে চাপে রাখতে নানা মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে এবং নেতাদের চরিত্র হননে নানা বানোয়াট গল্প প্রচারের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ফলে এই দলের জন্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ কতটা থাকবে তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে বৈধ সংস্কার ও নির্বাচন অসম্ভব বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। তবে আওয়ামী লীগ ও তাদের ১৪ দলীয় শরিকদের এসব সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এছাড়া সরকার ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন, পুলিশ, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও সংবিধান সংস্কারে কমিশনও গঠন করেছে। তারা কাজও শুরু করেছেন। এ বিষয়ে আশাবাদী রাজনৈতিক দলগুলো। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান করার যে সময়সীমা উল্লেখ করেছেন, তাতে তিনি খুশি। যদিও এই সময় তাঁর প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে বৈধ সংস্কার ও নির্বাচন অসম্ভব। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, আমি খুশি যে আমাদের প্রত্যাশিত একটি সময়সীমা এখন আছে আমাদের সামনে। তবে আমরা এই নাটক আগেও দেখেছি, যেখানে একটি অসাংবিধানিক, অনির্বাচিত সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তারপর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এ সময় জয় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ঠিক আগে পাকিস্তানের জান্তা সরকারের কর্মকাণ্ডের উদাহরণ দেন। পাশাপাশি নিকট অতীতে, ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের আগে এই অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় ছিল। তিনি বলেন, তিনি বা অন্তর্বর্তী সরকার কেউই ১৭ কোটি মানুষের দেশে ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন পর্যন্ত পরস্পরের সঙ্গে কথা বলেননি। তিনি বলেন, সবচেয়ে পুরোনো ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে বৈধ সংস্কার ও নির্বাচন করা অসম্ভব। এর আগে, গত আগস্টে সজীব ওয়াজেদ জয় রয়টার্সকে বলেছিলেন, শেখ হাসিনা দেশে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত এবং আওয়ামী লীগ নির্বাচনে লড়াই করতে চায়। তবে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, পর্যালোচনা করে তিন মাসের মধ্যে সুপারিশ করা হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপ হবে কি না, নাকি দলটি ছাড়াই তারা নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করবে, সেটা সরকারের ওপর নির্ভর করছে। তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্ব অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। সরকারের দুই মাসের অধিক সময় পার হয়েছে। এ সময়ে তাদের কর্মকাণ্ডে ধীরগতি দেখলেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আশাবাদী আওয়ামী বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স